আজকের পর্বে আমি এই টারেস্ট 250 মিলিগ্রাম ট্যাবলেটটি নিয়ে আলোচনা করব। এটি কোন রোগের মেডিসিন? কোন কোন ধরনের স্কিন ইনফেকশন বা চর্ম রোগ হলে ডাক্তার বাবুরা এই মেডিসিনটি প্রেসক্রিপশন করেন? এই মেডিসিন খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী? কতদিন খেতে হবে? কিভাবে খেতে হবে? এই মেডিসিন খেলে কোন কোন ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না? এই মেডিসিনটি কারা খেতে পারবে না? এই মেডিসিন খেলে কোন কোন ধরনের সাইড ইফেক্ট হতে পারে? এই মেডিসিনের দাম কত? কোথায় পাওয়া যাবে? বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেলটি স্কিপ না করে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
আপনি আমার পাশে যেটি দেখছেন এটি টারেস্ট 250 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট। এর ভিতরে যে কম্পোজিশন থাকে সেটি হচ্ছে টারবিনাফাইন 250 মিলিগ্রাম। এটি তৈরি করেছে সিস্টপিক কোম্পানি আর নাম দিয়েছে টারবিস্ট।
দাম ও প্যাকেজিং
এটি এক পাতায় ৭টি ট্যাবলেট পাওয়া যায় যার বর্তমান বাজার মূল্য ১০৫ টাকা। সময়ের সাথে সাথে দাম বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে।
কম্পোজিশন ও বিকল্প
এই টারবিস্ট ট্যাবলেট এর যে কম্পোজিশন সেটি হলো টারবিনাফাইন। এই টারবিনাফাইন মার্কেটে ২৫০ মিলিগ্রাম আর ৫০০ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়। ইন্ডিয়ান মার্কেটে আপনি টারবিস্ট নামে ছাড়াও আরো বিভিন্ন নামে আপনি পাবেন এই টারবিনাফাইন।
তবে টারবিস্ট ছাড়াও যদি আপনি কোনো ব্র্যান্ডেড অথবা অফ-ব্র্যান্ড ওষুধ কিনতে চান তাহলে আপনি টারবিনা ফোর্স, সেভিফিন, টাইজা, টারবিসিপ — এই সমস্ত নামেও আপনি কিনতে পারেন। এই সমস্ত নামের ওষুধগুলি ব্র্যান্ডেড এবং অফ-ব্র্যান্ড ওষুধ। আপনি নিঃসন্দেহে টারবিস্ট নামে যদি না পান তাহলে এই চার রকম নামে যদি আপনি পান তাহলে আপনি কিনতে পারেন।
কোন সমস্যায় ব্যবহার হয়
এটি হলো অ্যান্টিফাঙ্গাল নামক ওষুধের গ্রুপের একটি অন্তর্ভুক্ত। একচুয়ালি এটি হচ্ছে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ। মানে যাদের ফাঙ্গাল সংক্রমণ, ফাঙ্গাল ইনফেকশন — যাদের ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে যাদের ত্বকে বা চামড়ায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয় — যেমন দাদ, হাজা, চুলকানি — এই সমস্ত সমস্যা যদি হয়ে থাকে তখন ডাক্তার বাবুরা এই মেডিসিনটি খাওয়ার পরামর্শ দেন।
এছাড়াও যাদের ছত্রাক সংক্রমণের জন্য বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের জন্য হাতে-পায়ের নখ নষ্ট হয়ে যায় — তারাও এই মেডিসিনটি খেতে পারেন। এছাড়াও অনেকের আছে অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা — মানে যাদের অ্যালোপেসিয়া, মানে অনেক সময় দেখা যায় যে মাথায় টাকপোকা লেগেছে। অনেকেই বাংলা ভাষায় বলেন টাকপোকা। এটি ইংরেজিতে বলা হয় অ্যালোপেসিয়া। মানে ডাক্তারি আমাদের পরিভাষায় এটি হচ্ছে অ্যালোপেসিয়া। আর যাদের টাকপোকা লেগেছে — টাকপোকা কিন্তু মাথায়ও লাগতে পারে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গেও লাগতে পারে, এমনকি মুখের এই দাড়িতে লাগতে পারে, গোঁফে লাগতে পারে। যেখানে লাগে সেখানে গোল করে চুলগুলো খেয়ে নেয়। এটাও এক ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ছত্রাক সংক্রমণ। যদি কারোর এরকম সমস্যা থাকে তবুও সে এই ওষুধটি খেতে পারে।
চিকিৎসা সেবা
তবে কি শুধু এই ওষুধ খেলে হয় না। এর সাথে আরো অন্যান্য ওষুধ খেতে হয়। এমনকি অনেক ধরনের অয়েন্টমেন্ট, এমন ক্রিমও ব্যবহার করতে হয়। যাদের পুরাতন চর্ম রোগ, যাদের দাদ, হাজা, চুলকানি, একজিমা আর হাতে-পায়ের নখ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, টাকপোকা লেগেছে, অনেকদিন ধরে ওষুধ খাচ্ছেন — যারা বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগের ওষুধ (যেমন ইট্রাকোনাজল, ফ্লুকোনাজল জাতীয় ওষুধ) খেয়েছেন, কেটোকোনাজল জাতীয় অয়েন্টমেন্ট কিংবা ক্রিম ব্যবহার করেছেন — তারপরও চর্মরোগ ভালো হচ্ছে না। হয়তো এমন এমন ডাক্তার আছে যারা প্রথম প্রথম এমন কিছু স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে — আপনি লাগানোর সাথে সাথে এমনকি খাওয়ার সাথে সাথে আপনার ত্বক ভালো হয়ে যাবে। আপনি হয়তো ভাববেন যে আপনার চর্মরোগ থেকে আপনি মুক্তি পেয়েছেন, আপনার চর্মরোগ ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা ভালো হয় না। সেটা চামড়ার তলে থেকে যায়। পরে ওষুধ খাওয়া যখন আপনি বন্ধ করবেন তখন আবার সেই চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।
তাই আপনার যদি দীর্ঘ পুরাতন চর্মরোগ থাকে, যদি আপনার টাকপোকার সমস্যা থাকে, হাতে-পায়ের নখ যদি নষ্ট হয়ে যায় — তাহলে আপনি চিকিৎসা নিতে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার এই আর্টিকেল বক্সে দেওয়া আছে। আপনি চাইলে সেই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার নাম, বয়স, ওজন, কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে, আপনার রোগের বর্ণনা লিখে আমাকে পাঠাবেন।
প্রয়োজন হলে আপনার চর্মরোগ যেখানে হয়েছে, যে যে অঙ্গে, যে জায়গায় হয়েছে আপনি চাইলে সেই জায়গার ছবি তুলে আমাকে পাঠাতে পারেন। কেউ ফোন করে ডিস্টার্ব করবেন না। প্রয়োজন হলে আমি নিজেই ফোন করব। তবে আপনি হোয়াটসঅ্যাপে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমার ফি খুব সীমিত। সবকিছুর ডিটেইলস ডেসক্রিপশন বক্সে লেখা থাকবে। আপনি সেখান থেকে নাম্বার নেবেন কিংবা এই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারেও আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
ডোজ, খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা
এই ট্যাবলেটের ডোজ কেমন হবে? এই ট্যাবলেট আপনি দিনে একবার খাবেন নাকি দুবার খাবেন — এটি সম্পূর্ণ রোগীর রোগের উপরে নির্ভর করবে। এই ট্যাবলেটটি আপনি কতদিন খাবেন — এটি বলা খুব মুশকিল। কারণ কমপক্ষে একটানা এই ট্যাবলেট তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত খেতে হয়। তবে আপনার রোগ কোন ধরনের — একচুয়ালি রোগীর রোগের উপরে নির্ভর করবে ডোজ এবং ডিউরেশন। রোগীর রোগের উপরে নির্ভর করবে আপনি প্রতিদিন কটা করে ট্যাবলেট খাবেন আর কতদিন পর্যন্ত খাবেন। প্রয়োজন হলে আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আপনার ডোজ এবং ডিউরেশন আমি বলে দেব।
এই ট্যাবলেটটি কারা খেতে পারবে না? যাদের কিডনির সমস্যা আছে, লিভারের সমস্যা আছে, যে সমস্ত মেয়েরা গর্ভবতী এবং গর্ভধারণের জন্য প্ল্যানিং করছে এবং যে সমস্ত মায়েরা তাদের সন্তানকে বুকের দুধ পান করায় — তারা এই ট্যাবলেটটি খেতে পারবে না।
এই ট্যাবলেট খেতে হলে কোন কোন ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না? যেমন এক নম্বর — মদ খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত চিনি ও চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। ক্যাফিন জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। চা, কফি, চকলেট খাওয়া যাবে না। এছাড়াও সফট ড্রিংকস (যেমন থামস আপ, সেভেন আপ, স্প্রাইট, কোকাকোলা, পেপসি, ফান্টা, মরিন্ডা) এ জাতীয় সব ড্রিংকস খাওয়া যাবে না।
সাইড ইফেক্ট
এই টারেস্ট ট্যাবলেট খেলে আমাদের কোন কোন ধরনের সাইড ইফেক্ট হয় — সেগুলিও জানতে হবে। এই ট্যাবলেট খেলে আমাদের মুখের রুচি পরিবর্তন হতে পারে, মুখের স্বাদ পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়াও মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, গ্যাস, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া — এ সমস্ত সমস্যা হতে পারে। তাই এই ট্যাবলেটের সাথে অবশ্যই একটা ভালো গ্যাসের ওষুধ খেতে হবে। প্রয়োজন হলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি বলে দেব।
এছাড়াও এই ট্যাবলেট খেলে আমাদের লিভারের এনজাইমগুলি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এই ট্যাবলেট খাওয়ার পর যদি কারোর শরীর হলুদ হয়ে যায়, মুখ-চোখ যদি হলুদ হয়ে যায় আর প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ বর্ণের হয় — তাহলে এই ট্যাবলেট খাওয়া বন্ধ রেখে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ প্রয়োজন হলে আপনার এলএফটি টেস্ট করতে হবে। এলএফটি মানে লিভার ফাংশন টেস্ট। এই লিভার ফাংশন টেস্ট করলে বোঝা যাবে আপনার লিভারের কোনো সমস্যা আছে কিনা। তাই এই ট্যাবলেট খাওয়ার পর যদি আপনার গায়ের রং হলুদ হয়ে যায়, মুখ-চোখ যদি হলুদ হয়ে যায়, প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ বর্ণের হয় — তাহলে ওষুধ খাওয়া বন্ধ রেখে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন।
উপসংহার
আজকের আর্টিকেল দেখার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আগামী দিনের আর্টিকেল দেখার জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ রইল। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আর যারা এখনো আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেননি — তারা চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমার পাশে থাকবেন। আমিও আপনাদের পাশে থাকবো। নিত্য নতুন আর্টিকেল আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সম্পর্কে আলোচনা করব।