বাসে বা যেকোনো ধরনের গাড়িতে উঠলেই কি আপনার বমি বমি ভাব হয়, বমি হয়, মাথা ঘোরে, শরীর দুর্বল লাগে, শরীরের মধ্যে একটা অস্বস্তিবোধ অনুভব করেন? আপনি কি এই মোশন সিকনেসের সমস্যা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে চান? তাহলে আপনি আজ সঠিক আর্টিকেল ক্লিক করেছেন। কারণ আজকের পর্বে আমি এই অ্যাভোমিন 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট নিয়ে আলোচনা করব।
এটি কোন রোগের মেডিসিন? যাত্রাপথে বমি হলে এটি কিভাবে খেতে হবে? এই মেডিসিনের ডোজ কেমন হবে? এই মেডিসিন কতদিন খেতে হবে? এই মেডিসিন খেলে কি কি সাইড ইফেক্ট হতে পারে? এই মেডিসিনের দাম কত? কোথায় পাওয়া যাবে? এই মেডিসিন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
কম্পোজিশন ও কোম্পানির তথ্য
আপনি আমার পাশে যেটি দেখছেন এটি অ্যাভোমিন 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট। এর ভিতরে যে কম্পোজিশন থাকে সেটি হল প্রোমেথাজিন থিওক্লোরাইড 25 মিলিগ্রাম। এটি তৈরি করেছে এভার্ট কোম্পানি আর নাম দিয়েছে অ্যাভোমিন ট্যাবলেট। এটি এক পাতায় ১০টি ট্যাবলেট পাওয়া যায় যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬১ টাকা। সময়ের সাথে সাথে এর দাম বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে।
এটি কোন সমস্যায় ব্যবহার হয়
এটি হলো এক প্রকারের অ্যান্টিইমেটিক ড্রাগ। এটি নজিয়া ও ভমিটিং বা বমি বমি ভাব ও বমির চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এটি মোশন সিকনেস কন্ট্রোল করে। জার্নি বা ট্রাভেলিং করার সময় অনেকেরই মাথা ঘোরে, মাথাব্যথা করে, অস্বস্তি বোধ করেন, বিরক্ত বোধ করেন, শরীরের মধ্যে গরম অনুভব করেন, শরীর দুর্বল হয়ে যায়, বমি বমি ভাব হয়, গা গুলিয়ে ওঠে, এমনকি বমি হয় — এই সমস্ত সমস্যায় এই মেডিসিনটি ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও যাদের এলার্জির সমস্যা আছে, এলার্জির কারণে যাদের গায়ে চুলকানি হয়, ফুসকুড়ি হয় — তারাও এই ওষুধটি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও এলার্জির জন্য যাদের গলা ফুলে যায়, হাঁসি হয়, কাশি হয়, নাক দিয়ে জল পড়ে — তারাও এই ওষুধটি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও মর্নিং সিকনেস বা যাদের সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয়, সকালবেলায় যাদের শরীরটা দুর্বল লাগে, ক্লান্ত লাগে, সকালবেলায় কোনো কিছু খেতে ইচ্ছা করে না, ক্ষুধা লাগে না — এই সমস্ত রোগীদের চিকিৎসায়ও এই অ্যাভোমিন 25 ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়।
ডোজ ও খাওয়ার নিয়ম
এখন আমরা জানবো এই অ্যাভোমিন 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেটের ডোজ এবং ডিউরেশন কেমন হবে আর যাত্রাপথের বমি হলে এই অ্যাভোমিন 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট কিভাবে খেতে হবে।
যাদের বয়স ১২ বছরের বেশি — তারা একদিনে বা পুরো ২৪ ঘণ্টায় এই অ্যাভোমিন 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট একটা খাবেন। যাদের বয়স ১২ বছরের কম এবং ৬ বছরের বেশি — তারা পুরো ২৪ ঘণ্টায় বা একদিনে এই অ্যাভোমিন 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট অর্ধেক করে খাবেন। আর যাদের বয়স ৬ বছরের কম — তাদের জন্য মার্কেটে সিরাপ পাওয়া যায়। বাচ্চার ওজন কত — তার উপরে ডোজ নির্ভর করবে।
বিকল্প ওষুধ ও সাইড ইফেক্ট
আপনি যদি অ্যাভোমিন 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট মার্কেটে না পান তাহলে এর বিকল্প হিসেবে আপনি ফেনারগান, প্রোমেগান এই সমস্ত নামের ওষুধগুলোও কিনতে পারেন।
এই ওষুধ একটানা সাত দিনের বেশি খাওয়া উচিত নয়। এই ওষুধের কিছু সাইড ইফেক্ট আছে। যেমন এই ওষুধ খেলে আপনার ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে, ঝাপসা দৃষ্টি হতে পারে, আর গলার মধ্যে শুকিয়ে যেতে পারে, মুখের মধ্যে শুকিয়ে যেতে পারে। তাই এই ওষুধ খাওয়ার পর গাড়ি চালাবেন না বা এমন কিছু করবেন না যার জন্য মানসিক মনোযোগের প্রয়োজন হয়।
মোশন সিকনেসের সমাধান
এখন বাসে উঠলে যাদের বমি হয়, এমনকি গাড়িতে উঠলে যাদের বমি হয় — তারা গাড়িতে ওঠার আধা ঘণ্টা আগে (৩০ মিনিট আগে) একটা অ্যাভোমিন 25 ট্যাবলেট আর একটা ভালো গ্যাসের ওষুধ খেতে হবে। গ্যাসের ওষুধের ভিতরে যেন অবশ্যই ডোমপেরিডন থাকে। যেমন প্যান্টোপ্রাজল প্লাস ডোমপেরিডন, ইসোমেপ্রাজল প্লাস ডোমপেরিডন, র্যাবিপ্রাজল প্লাস ডোমপেরিডন, ওমিপ্রাজল প্লাস ডোমপেরিডন, রেনিটিডিন প্লাস ডোমপেরিডন — এই গ্রুপের গ্যাসের ওষুধ আপনাকে খেতে হবে।
একটা ভালো গ্যাসের ওষুধ খাবেন আর একটা 25 মিলিগ্রাম ট্যাবলেট খাবেন — বাসে কিংবা গাড়িতে ওঠার ৩০ মিনিট আগে খাবেন। তারপর বাসে উঠে আপনি চোখ বন্ধ করে থাকবেন। যদি ঘুম আসে তো ঘুমিয়ে পড়বেন। আর যদি ঘুম না আসে তাহলে চোখ বন্ধ করে থাকবেন। দেখবেন আপনার কোনো রকম সমস্যা হবে না। আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন।
এইভাবে অভ্যাস করুন। দেখবেন আপনার এই বাসে উঠলে যে মোশন সিকনেস হয় — এই সমস্যা থেকে আপনি পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে যাবেন। অনেকে বলে না — বাসের ভিতরে উঠলে বমি হলে মুখের ভিতরে আদা রাখতে হবে, নাকে লেবুর খোসা শুকতে হবে, পুদিনা পাতা খেতে হবে, লেবু লজেন্স চুষতে হবে। এ সমস্ত কোনো লাভ হয় না। কোনো মানে হয় না। এতে আপনারা যাদের বমি হয় — তারা জানেন এ সমস্ত করলে কিছুই হয় না।
উপসংহার
তাই আজকের পর থেকে যদি আপনাকে বাসে উঠতে হয়, বাসে উঠলে যদি বমি বমি ভাব হয় — তাহলে অবশ্যই একটা অ্যাভোমিন 25 ট্যাবলেট আর একটা ভালো গ্যাসের ওষুধ ৩০ মিনিট আগে খাবেন। তারপর বাসে কিংবা যেকোনো ধরনের গাড়িতে উঠবেন। তারপর চোখ বন্ধ করে থাকবেন। বাসের ভিতরে এবং বাইরে কোনো কিছু দেখার প্রয়োজন নেই। চোখ বন্ধ করে থাকবেন। তারপর দেখবেন আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। কোনো বমি হবে না, শরীর দুর্বল হবে না, মাথা ঘুরবে না। এটুকু আমি বলতে পারি। এটা একদম পরীক্ষিত সত্য।