আজকের পর্বে আমি সবথেকে সস্তা এবং ভালো ব্র্যান্ডেড আয়রন ট্যাবলেট নিয়ে আলোচনা করব। প্রিয় দর্শক, আমার এই ডিয়ার মেডিসিন ইউটিউব চ্যানেলে আমি সবসময় ভালো ব্র্যান্ডেড ওষুধের রিভিউ করি।
ওষুধ কিন্তু দুই রকমের। এক হচ্ছে ব্র্যান্ডেড ওষুধ, দুই জেনেরিক ওষুধ। ব্র্যান্ডেড ওষুধ আর জেনেরিক ওষুধের মধ্যে অনেক রকমের পার্থক্য আছে। কিন্তু শুধুমাত্র আজকের এই আর্টিকেল আমি সব রকম পার্থক্য আলোচনা করবো না। কিছুটা প্রাথমিক ধারণা আপনাদেরকে দেবো যাতে আপনারা ওষুধ কিনতে গিয়ে কোনো রকম না ঠকেন। আপনাকে যেন ঠকতে না হয় তার জন্য কিছুটা ধারণা আমি আপনাদেরকে দেবো।
ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের পার্থক্য
এটা মনে করুন — ব্র্যান্ডেড ওষুধ। আপনি মনে করুন এটি ব্র্যান্ডেড ওষুধ। এই ওষুধের এমআরপি আছে ১৯০ টাকা। এটা মনে করুন জেনেরিক ওষুধ। এই ওষুধের এমআরপি আছে ১৯০ টাকা। সেম এমআরপি।
সেম যখন কোনো ওষুধ ব্যবসায়ী বা ওষুধের দোকানদার যখন কোনো ব্র্যান্ডেড ওষুধ কেনে — যখন এই ব্র্যান্ডেড ওষুধটা কিনবে — এই ব্র্যান্ডেড ওষুধের ক্রয় মূল্য মানে দোকানদারের ক্রয় মূল্য পড়বে কত? ধরুন ১৫০ টাকা। মানে ১৯০ টাকা এমআরপি আছে, দোকানদার কিনলো ১৫০ টাকায়। আপনাকে বিক্রি করবে কত? ১৯০ টাকায়। যেহেতু এমআরপি ১৯০ টাকা আছে।
আর এটা হচ্ছে জেনেরিক ওষুধ। এই জেনেরিক ওষুধের এমআরপি কত? ১৯০ টাকা। দোকানদার এটাকে কিনবে শুধুমাত্র ২০ টাকায়। তাহলে বুঝতে পারছেন — আপনি এটা ২০ টাকায় কিনবে। দোকানদারের ক্রয় মূল্য হচ্ছে ২০ টাকা আর সাধারণ পাবলিকের কাছে বিক্রি করবে কত? ১৯০ টাকায়। যেহেতু এমআরপি ১৯০ টাকা আছে।
এখন মেইন বিষয়টা হচ্ছে — প্রত্যেক জায়গায়, প্রত্যেক এরিয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ওষুধের উপরে ছাড় দিচ্ছে। কোন দোকানদার ১০% ছাড় দিচ্ছে, কোন দোকানদার ১৫% ছাড় দিচ্ছে, কোন দোকানদার ২০% ছাড় দিচ্ছে। তাহলে পরিষ্কার বোঝা গেল — ধরুন আপনি এই ১৯০ টাকার জেনেরিক ওষুধটা যদি আপনার ১৫% ছাড় দেয় তাহলেও কত হয়? ১৫% ছাড় দিলে ১৬১ টাকা হয়। ধরুন আপনাকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করলো। আপনাকে বলল যে দাদা ওষুধের দাম তো ১৯০ টাকা আছে, আপনি ১৬০ টাকায় দিন। আপনার এর কাছ থেকে আমি কম দাম নিলাম।
আরু পড়ুন: মানসিক স্ট্রেস এবং এনজাইটি কিভাবে কমানো যায়?
একচুয়ালি এই জেনেরিক ওষুধটা কিনা পড়লো কত? দোকানদারের শুধুমাত্র ২০ টাকায় কিনে বিক্রি করল কত? ১৬০ টাকায়। আর এদিকে ব্র্যান্ডেড ওষুধের কেনা দাম পড়বে কত? দোকানদারের ১৫০ টাকা। ১৫০ টাকা কেনা দাম পড়বে আর গায়ে দাম আছে কত? ১৯০ টাকা। এবার এখান থেকে হয়তো ডিসকাউন্ট করে দেবে আবার নাও দিতে পারে।
তাহলে পরিষ্কার বোঝা গেল — এখন আমরা বুঝলাম জেনেরিক ওষুধ বিক্রি করলে দোকানদারের অনেক টাকা লাভ হয় আর ব্র্যান্ডেড ওষুধ বিক্রি করলে দোকানদারের অল্প লাভ হয়। তাই অনেক লাভের আশায় দোকানদাররা সবসময় চেষ্টা করে জেনেরিক ওষুধ বিক্রি করার।
জেনেরিক ওষুধের ব্যবসায়ীক সত্য
আর বড় বড় এমবিবিএস ডাক্তারকে তারা বিভিন্ন রকম ভাবে মগজ ধোলাই করে ডাক্তারদেরকে দিয়ে জেনেরিক ওষুধ লেখায়। অনেক জেনেরিক ওষুধের কোম্পানির লোকজন বা রিপ্রেজেন্টেটিভ তারা ডাক্তারদেরকে মগজ ধোলাই করে জেনেরিক ওষুধ লেখানোর জন্য রিকোয়েস্ট করে যে স্যার এই ওষুধটা লিখে দিন, স্যার এই ওষুধটা লিখুন। এইভাবে ডাক্তারদেরকে রিকোয়েস্ট করে।
অনেক ডাক্তারদেরকে আবার মগজ ধোলাই করে বলে যে স্যার আমাদের এই কোম্পানির ওষুধটা লিখুন, আপনাকে লাভ্যাংশ দেবো। মানে লাভের যে অংশটা, যে টাকাটা লাভ হবে — তার অর্ধেক টাকা ডাক্তারকে দেবে আর অর্ধেক কোম্পানির থাকবে। এইজন্য এখন সব জায়গায় জেনেরিক ওষুধ ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে লিখছে।
সব ডাক্তাররা নয়। কিছু কিছু ডাক্তার আছে যারা ব্যবসায়ী ডাক্তার। যারা ডাক্তার নয়, ডাক্তার সেজেছে। যারা ডিগ্রি আছে কিন্তু যারা সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে, মুরগি বানাচ্ছে — এমন কিছু ডাক্তার আছে। তারা প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক ওষুধ লেখে। লাভ্যাংশ দোকানদার কিছু পায়, কোম্পানির লোক পায়, প্লাস ডাক্তার পায়। কারণ জেনেরিক ওষুধে তো প্রচুর লাভ।
এমন এমন জেনেরিক ওষুধ আছে — দোকানদার অল্প টাকায় কেনে, একদম অল্প টাকায় কেনে আর অনেক বেশি দামে বিক্রি করে। যেমন ধরুন এই জেনেরিক ওষুধের এমআরপি লেখা আছে ৬৯০ টাকা। দোকানদারের ক্রয় মূল্য শুধুমাত্র ৩০ টাকা। তার মানে দোকানদার শুধুমাত্র ৩০ টাকায় কিনলো আর বিক্রি করল কত? ৬৯০ টাকায়। তার মানে এক পাতা ওষুধে দোকানদার লাভ করল ৬৬০ টাকা। তার মানে বুঝতে পারছেন কি পরিমাণ দোকানদার লাভ করে জেনেরিক ওষুধ বিক্রি করে।
লিভোজেন জেড ক্যাপট্যাপ সম্পর্কে
প্রিয় দর্শক, আজকের ওষুধের আলোচনায় আসা যাক। আজকের পর্বে আমি এই লিভোজেন জেড ক্যাপট্যাপ ওষুধ নিয়ে আলোচনা করব। এটি কোন রোগের ওষুধ? কোন কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা হলে ডাক্তাররা এই লিভোজেন জেড ক্যাপট্যাপ ওষুধটি প্রেসক্রিপশন করেন? এটি খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী? কতদিন খেতে হবে? কিভাবে খেতে হবে? এই ওষুধের ডোজ কেমন হবে? এই ওষুধের দাম কত? কোথায় পাওয়া যাবে? বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেল স্কিপ না করে শেষ পর্যন্ত দেখুন।
আপনি আমার পাশে যেটি দেখছেন এটি লিভোজেন জেড ট্যাবলেট। এর ভিতরে যে কম্পোজিশনগুলি থাকে সেগুলি হল ফেরাস ফিউমারেট ১৫২ মিলিগ্রাম, ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি৯ থাকে ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম, জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট থাকে ৬১.৮ মিলিগ্রাম। এই তিনটে সমন্বয়ে প্রোক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বল হেলথকেয়ার লিমিটেড কোম্পানি তৈরি করেছে। আর নাম দিয়েছে লিভোজেন জেড ক্যাপট্যাপ। এটি ক্যাপসুলের মত দেখতে কিন্তু ছোট ছোট ট্যাবলেট যেটা গিলে খেতে সুবিধা হয়। ক্যাপসুলের মত দেখতে কিন্তু ট্যাবলেট, তাই এর নাম হয়েছে ক্যাপ ট্যাপ।
দাম ও উপকারিতা
এই লিভোজেন জেড ক্যাপট্যাপ এক পাতায় ১৫টি ট্যাবলেট পাওয়া যায় যার বর্তমান বাজার মূল্য ১০৫ টাকা। সময়ের সাথে সাথে দাম বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। এখন বর্তমানে এই আয়রন ট্যাবলেটের দাম একদম কম — ১০৫ টাকায় ১৫টা পাওয়া যাচ্ছে। এটা হচ্ছে একদম সস্তা এবং ভালো ব্র্যান্ডেড ওষুধ।
আমি আগেই বলেছি — আমার চ্যানেলে আমি ভালো ব্র্যান্ডেড ওষুধের রিভিউ করি। কারণ ব্র্যান্ডেড ওষুধের কাজ বেশি হয় আর জেনেরিক ওষুধের কাজ কম হয়। তাই আমি সবসময় ভালো জিনিস, ভালো ওষুধের রিভিউ করি।
এই লিভোজেন জেড ট্যাবলেটের মধ্যে তিন রকমের ওষুধ থাকে — আয়রন থাকে, ফলিক অ্যাসিড থাকে আর জিংক থাকে। এই ফেরাস ফিউমারেট, ফেরাস অ্যাসকর্বেট এগুলি সবই এলিমেন্টাল আয়রন। ফেরাস ফিউমারেট, ফেরাস অ্যাসকর্বেট — এগুলি সবই আয়রনের রাসায়নিক নাম যেগুলো ওষুধের মধ্যে লেখা থাকে।
এই লিভোজেন জেড ট্যাবলেট এর মধ্যে থাকে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড আর জিংক। তাই যে সমস্ত ব্যক্তির শরীরে আয়রনের অভাব আছে, জিংকের অভাব আছে আর ফলিক অ্যাসিডের অভাব আছে — তারা নিঃসন্দেহে এই লিভোজেন জেড ক্যাপসুলটি খেতে পারে।
আয়রনের অভাবের লক্ষণ ও উপকারিতা
আমাদের শরীরে যদি আয়রনের অভাব থাকে, যদি জিংকের অভাব থাকে, যদি ফলিক অ্যাসিডের অভাব থাকে — তাহলে আমাদের শরীর সবসময় দুর্বল থাকবে, শরীরে ক্লান্তি-ক্লান্তি ভাব, সবসময় ঘুম-ঘুম পাবে, শরীরের চামড়া খসখসে হয়ে যাবে, নষ্ট হয়ে যেতে থাকবে, চুল উস্কখুস্ক হয়ে যাবে, হাত-পা সবসময় ঠান্ডা থাকবে, অল্প পরিশ্রম করলে আপনি হাঁপিয়ে যাবেন, বুকের মধ্যে ধড়ফড় ধড়ফড় করবে, হাঁটুতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, হাতের পেশিতে ব্যথা — এই সমস্ত সমস্যা হতে পারে।
এছাড়াও মহিলাদের আয়রনের অভাবে মাসিকের ডেট পিছিয়ে যায়, মাসিক হয় না — এ সমস্ত সমস্যাগুলি হয়। তাই আপনি যদি চান — একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এই লিভোজেন জেড ট্যাবলেট খেতে পারেন।
এই ট্যাবলেটটি আমাদের কি কি উপকার করে? এই ট্যাবলেটটি আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। এই ট্যাবলেটটি আমাদের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। যার ফলে আমাদের রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ থেকে আমরা সুস্থ হয়ে উঠি।
এই ওষুধটি শরীরের ক্লান্তি ও দুর্বলতা দূর করে, শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শরীরে নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়াও কিছু হরমোন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই লিভোজেন জেড ট্যাবলেটটি।
এই ওষুধটি গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মধ্যে আছে ফলিক অ্যাসিড আর জিংক — যেটি গর্ভে থাকা শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করে আর মেরুদণ্ড গঠনে সাহায্য করে। মানে শিশুর শরীরকে স্বাভাবিক ও সুস্থ রাখে।
এই ওষুধটি গর্ভবতী মায়েদের ছাড়াও এই ওষুধটি যে সমস্ত মায়েরা ব্রেস্টফিডিং করান — মানে বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করান — তাদের জন্য এই ওষুধটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শরীরের ভিটামিনের চাহিদা, আয়রনের চাহিদা পূরণ করে এই ওষুধটি।
খাওয়ার নিয়ম ও সাইড ইফেক্ট
এই ওষুধের তেমন কোনো সাইড ইফেক্ট নেই। তবে এই ওষুধ খেলে একটু গ্যাস হতে পারে, কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, পায়খানার রং কালো হতে পারে, পটির রং কালো হতে পারে। তাই ভয় পাবেন না। এই ওষুধ খাওয়ার সাথে সাথে আপনি একটু বেশি করে জল পান করবেন। তাহলে আপনার কোনো প্রকার সাইড ইফেক্ট হবে না। আর যদি কোনো সাইড ইফেক্ট হয়, গুরুতর যদি কোনো সাইড ইফেক্ট হয় — তাহলে আপনি ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
এই ওষুধের ডোজ কেমন হবে? দেখুন ডোজ এবং ডিউরেশন মানে ওষুধ কটা করে খেতে হবে আর কতদিন খেতে হবে — এটা সম্পূর্ণ রোগীর রোগের উপরে নির্ভর করে। তবে এই ওষুধের প্রাথমিক ডোজ — এটি আপনার যদি খুব বেশি সমস্যা না থাকে তাহলে আপনি দিনে একবার খাওয়ার পরই খাবেন। দুপুরে কিংবা রাত্রে খাবার পর একটি করে ট্যাবলেট জল দিয়ে গিলে খাবেন। আর আপনার যদি সমস্যা খুব বেশি হয় তাহলে আপনি দিনে দুটো করে খেতে পারেন — সকালে খাবার পর একটা আর রাত্রে খাবার পর একটা খেতে পারেন।
তবে সবসময় মনে রাখবেন — ডোজ এবং ডিউরেশন এটা রোগীর রোগের উপরে নির্ভর করে।
উপসংহার
এই ওষুধ সম্পর্কে যদি আপনার কোনো রকম প্রশ্ন থাকে — আপনি আমার এই আর্টিকেলনিচে কমেন্ট করবেন। আমি উত্তর দিয়ে দেব। আজকের আর্টিকেলএখানেই শেষ করছি। আগামী দিনের আর্টিকেল দেখার জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ রইল। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আর যারা এখনো আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেননি — তাদের কাছে অনুরোধ।